শ্রী চারুচন্দ্র চক্রবর্তী--সাহিত্যজগতে যিনি "জরাসন্ধ "নামে পরিচিত এবং সম্পর্কে আমার স্বর্গীয় পিতা।
পূর্ববঙ্গে ফরিদপুরের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে ১৯০২সালে ২৩শে মার্চ তাঁর জন্ম। ছাত্র জীবন কেটেছে হেয়ার স্কুল এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে। এরপর বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়ে বেঙ্গল গভমেন্টের কারা বিভাগে নিযুক্ত হন দার্জিলিং শহরে প্রথম কর্ম ভারগ্রহণ করেন ডেপুটি জেলারের পদে ।
কর্মজীবনের শুরুতে কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি কথায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যা তাঁকে ভবিষ্যতে কারাগারের বন্দীদের মুখ থেকে শোনা কাহিনী নিয়ে লিখতে সাহায্য করেছিল। শরৎচন্দ্র কোন সময় বলেছিলেন,"কোন মানুষ নিছক কালো, তার মধ্যে কোন রিডিমিং ফিচার নেই, এ কথা আমি ভাবতে পারিনা, এ কথা ভাবতে আমার কষ্ট হয়"।
১৯৫৩ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস" লৌহ কপাট" দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে তিনি এক দুর্বার গতিতে একের পর এক উপন্যাস গল্প এবং ছোটদের জন্য লিখে গেছেন। তাঁর উপন্যাসের মধ্যে লৌহ কপাট /তামসী/ ন্যায়দন্ড/সহচরী /পরশমনি /নিঃসঙ্গ পথিক /ছায়াতীর/মসি রেখা/পসারিণী/ পাড়ি/মহাশ্বেতার ডাইরী বিশেষভাবে অগণিত পাঠকের মন জয় করেছিল। তাঁর বেশ কয়েকটি উপন্যাস /হিন্দি/গুজরাটি /মারাঠি /মালায়ালাম /এবং উড়িয়া তে অনুবাদ হয়েছে।১৯৮১ সালের ২৫শে মে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সাহিত্যজগতে "জরাসন্ধ "একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। আজও সাহিত্যরসিক অগণিত পাঠক শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর লেখা উপভোগ করেন।