Short Stories 3 - 'মা' শ্রীমতি হেমলতা চক্রবর্তী

(ওঁরা আমার একান্ত আপন)
"মা"------
শ্রীমতী হেমলতা চক্রবর্তী
1947 সালের সমাজ ব্যবস্থায় চতুর্থ সন্তান যদি আবার পুত্র হয় তখন একজন মা আবার কন্যা সন্তানের জন্য আশা করতেই পারতেন--কেউ তা নিয়ে সমালোচনা বা হাসি-ঠাট্টা হয়তো করতেন না। আমার মা শ্রীমতী হেমলতা চক্রবর্তী তাঁর অসাধারণ মনের জোর নিয়ে একরকম দৃঢ়সংকল্প হয়েই চার ছেলের পর মেয়ের জন্ম নিয়ে সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
1946 সালের কোজাগরী পূর্ণিমায় কিছু শুভাকাঙ্খী মহিলা সংঘবদ্ধ হয়ে 7 ফুলের ডাল, সাত ঘাটের জল, সাত ব্রাহ্মণের পায়ের ধূলো গঙ্গা জলে মিশিয়ে মাকে পবিত্র স্নান করিয়েছিলেন। মার বিশ্বাস ছিল মা লক্ষ্মীর কৃপায় তাঁর অবশ্যই কন্যা সন্তান লাভ হবে।
শুনেছি বাবা-মাকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন "এসব অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে এস"।
১৯৪৭ সালের ৮ই মাঘ মা তাঁর বিশ্বাসকে অন্ধ প্রমাণিত হতে দেননি। এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিলেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকলে সব কিছু সম্ভব।
মা আমার নাম রাখলেন রত্না।
শ বছর বয়সে আমার দায়িত্ববোধ দেখে সকলে শুধু অবাকই হতেন না, নিজেদের ভেতরে আলোচনা করতেন
"কি হবে এই মেয়ের , এতো সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে।"
বাবা কে শুনতে হত,"একে একটু আলাদা করে আপনাকে দেখতে হবে"
১৯৫৩ আমার ছোট বোনের জন্মের একদিন আগে রাত্তিরে আমি মা'র ঘরের বাইরে আমার প্রিয় ইজি চেয়ারে বসে শুনতে এবং বুঝতে চেষ্টা করছিলাম ঘরের ভেতরে কি হচ্ছে। বাবা কয়েক বার এসে আমায় শুতে যেতে বলেও কোন লাভ হয়নি।

"খুকু তুমি শুতে যাও, মাকে দেখার জন্য ডাক্তার নার্স সবাই আছেন।"আমি জবাবে বললাম "না না ওরা তো কিছুই করছে না,
মার কষ্ট হচ্ছে শুনতে পাচ্ছ না? আমি মাকে না দেখে শুতে যাব না।"
পরদিন যখন আমার ঘুম ভাঙলো তখন দেখলাম আমি নিজের বিছানায় শুয়ে আছি। বাবা আমার পাশে বসে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আমাকে দেখার জন্য একজন বয়স্ক মহিলাকে রাখা হয়েছিল। যমুনা দি আমায় চান করিয়ে খাইয়ে আবার শুইয়ে দিল। সন্ধ্যেবেলা জামাকাপড় পরিয়ে "মা'র কাছে চল "।বলে হাত ধরে মার ঘরে নিয়ে এল। সমস্ত ঘটনাটা তখনো আমার কাছে পরিষ্কার ছিল না। একটু পরেই যখন মা আমায় কাছে এসে বসতে বললেন তখন অবাক দেখলাম মার পাশে একটা পুতুলের মত কিছু রয়েছে।"এটা কি" জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম, যমুনা দি আমার পাশে এসে বললো "দেখছো খুকুমণি তোমার ছোটবোন"আমি জলভরা চোখে মাকে জিজ্ঞেস করলাম" আমার ছোট বোন কোথা থেকে এলো ?"
মা আমাকে দু'হাতে কাছে টেনে নিয়ে বললেন"ওকে ভগবান পাঠিয়েছেন"।
আমার ন বছরের জন্মদিনে সবাইকে মা একেবারে তাক লাগিয়ে দিলেন--সেদিন প্রচুর অতিথি সমাগম হয়েছিল। বেনারসি শাড়ি পরিয়ে,মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভারী ভারী গয়না পরিয়ে
একদম বালিকা বধূ করে মা সকলের মাঝখানে এনে আমায় বসিয়ে দিলেন। সকলের মুখে তখন কথা সরে না। সবথেকে অবাক হলেন বাবা। তার দৃষ্টি তখন শুধু আমার গায়ের গয়না দিকে। পরে শুনেছিলাম মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এত গয়না মেয়েকে বিয়েতে দিতে হবে নাকি? ভুলে যেওনা এরপর আর একজন আছেন কিন্তু।
বাবা কে মা আশ্বস্ত করে পরে পরে বলেছিলেন এত চিন্তা করার কোনো কারণ নেই, আমার জন্মের পর থেকেই একটু একটু করে গয়না গড়ানো শুরু হয়ে গিয়েছিল।

এর কিছুদিন পর সত্যনারায়ণ পূজো উপলক্ষে বাড়িতে একজন সন্ন্যাসী এলেন। মার ইশারায় আমি তাঁকে প্রণাম করে পাশে গিয়ে বসলাম।আমার হাত দেখে বললেন "এই মেয়ের দীর্ঘ আয়ু, ওর বিবাহ যোগ শুরু হয়ে যাবে ১১ বছর বয়স থেকেই। একটু তাড়াতাড়ি যদি বিবাহ সম্পন্ন না হয় তাহলে ওর সংসার ত্যাগী হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মেয়ে এই মেয়ে জীবনে অনেক কিছু করবে। সুখী সংসার হবে কিন্তু প্রকৃত শান্তি কতটা পাবে তা বলা মুশকিল।মা'র চোখের জল সেদিন বাধা মানল না। বাবা বিরক্ত হয়ে আমাকে ভেতরে যেতে বললেন।
হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায়‌ সসম্মানে পাশ করে কলেজে ভর্তি হলাম। আমার বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেল তখন থেকেই।
আমাকে দেখতে পাত্রের মা বাবারা আসতেন এবং প্রথম দর্শনেই আমাকে পছন্দ করে যেতেন। কখনো-সখনো পাত্র নিজেই আসতেন। এদের কাউকেই আমার পছন্দ হয়নি। যেহেতু ওই সময় আমি একেবারেই বিয়ের বিপক্ষে ছিলাম সেই জন্য ঐ ব্যাপারে আমার কোন উৎসাহ ছিল না।
বাবা-মা দুজনেই খুবই নিরাশ হয়ে পড়ছিলেন।
কদিন পরে আমাদের এক আত্মীয় একজন সুপাত্রের খবর নিয়ে এলেন। বাবা এইবারে প্রথমেই ছেলেকে দেখে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। নির্দিষ্ট দিনে একজন অতি সুদর্শন ইঞ্জিনিয়ার মা-বাবার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে সামনে এসে বসলেন। আমি পাশের বারান্দা থেকে সব কিছু শুনছিলাম এবং দেখছিলাম। ভদ্রলোকের চলে যাবার পর মা'র ঘরে এসে ঠাকুরের ছবির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়া আমার একদম ভালো লাগেনি। কারনটা জানতে চাইলে মা বললেন"ছেলেটির সঙ্গে কথা বলে এত ভালো লাগলো, এত শান্তি কোনদিন পাইনি।"
আমার বিয়ে নিয়ে মা'র যত আশা-আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন ছিল ঈশ্বর তার সবটুকু পূরণ করে দিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে আমার থেকে মার কাছে তাঁর
জামাই অনেক বেশি আপন হয়ে উঠলেন।

ছোট বোনের বিয়ের পর মা খুব একা হয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমি স্বামীর পুত্র নিয়ে এ দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু স্বামীর নির্দেশে বছরের দু তিনবার কলকাতা ঘুরতে যেতাম।
১৯৭৯ সালে আমার কন্যা রত্নর জন্ম হলো। মেয়েকে দেখে মা এতই খুশি হলেন যে আমরা সবাই পর হয়ে গেলাম। মেয়ের অন্নপ্রাশনের দিন মামার হাতে ভাত খেয়ে মেয়ে নিজে থেকে মার কোলে যেতে চাইলে ‌ মা বললেন ও আমার হাতেও আজকে ভাত খাবে দাও আমায় একটু বাটিতে পায়েস এনে দাও। মার হাত থেকে পায়েস খেয়ে মেয়ে মার কোলে ঘুমিয়ে পড়েছিল সেদিন।
১৯৮১সালে বাবার আকস্মিক মৃত্যু মাকে যেন একটা কঠিন বাস্তবের সামনে এনে দাঁড় করালো। আমিও বুঝতে পারছিলাম যে এরপর অতবড় বাড়িতে একা থাকা মার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হবে না। ঠিক হলো দুই ছেলে এবং দুই মেয়ের কাছে তিনি বারি বারি থাকবেন। জানিনা কেন ছোট ছেলে এবং পুত্রবধূর ওপর তার যেন ভরসা এবং বিশ্বাস কমে গিয়েছিল।
ওই সময় আমাকে ঘর সামলে বাইরে পতি দেবতার ব্যবসার কাজে বেশ কিছুক্ষণ বাইরে থাকতে হতো। মা প্রায়ই ওই সময় আমার হাত ধরে বলতেন "আমার খুব ভয় করে, বাইরে কাজে না গেলেই কি নয়?"মাকে সেদিন বোঝাতে পারিনি যে আমি কতটা বাধ্য হয়ে এই কাজ করতাম। শুধু বলেছিলাম তোমার জামাই তো চাকরি ছাড়তে পারবে না তাই আমাকে অন্য একটা অফিসে গিয়ে কিছু কাজ দেখাশোনা করতে হয়। ধীরে ধীরে মার শরীরের অবনতির কথা আমার অজানা ছিলনা। তিনি নিজের ঘর সংসার ছেড়ে কোথাও গিয়েছে শান্তি পাচ্ছিলেন না সেটা আমার পরিষ্কার বোঝা হয়ে গিয়েছিল।
ছোট ভাইকে ভালো করে সমস্ত ব্যাপারটা বুঝিয়ে মাকে নিজের ঘরে নিয়ে যেতে বললাম। যাবার সময় মায়ের চোখের জল দেখে আমার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। যাইহোক প্রায়ই তাকে দেখতে যেতাম একদিন ছোট ভাইকে একজন দিনরাত্রির নার্স রাখার কথা বলতে মা ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন তাঁর কোন দরকার নেই তিনি ভালো আছেন।
ধীরে ধীরে মা-র হাঁটাচলা করার শক্তি কমে আসছে দেখে আমি ছোট ভাইকে কিডনি টেস্ট করার কথা বললাম। রিপোর্টটা নিয়ে আমি যখন আমার ডাক্তারের কাছে গেলাম তখন জানতে পারলাম না যে কোন সময় মায়ের কিডনি ফেইলিওর হতে পারে ।কথাটা পতি দেবতা কে জানাতে তিনি বললেন দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস এর কোনও সঠিক চিকিৎসা হয়নি। এ তো একদিন হবারই ছিল। ওই সময়টা শুধু ঈশ্বরকে ডাকা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। এ সমস্যার সমাধান তিনি ছাড়া আর কেই বা করতেন। একদিন আমার সেজো ভাইকে নিয়ে মার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। মা আমাদের দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। সেজো ভাই মার হাত দুটো ধরে আশ্বস্ত করে বলল" মা তোমার কোন ভয় নেই আমরা সবাই আছি"। সেদিন যেন কেমন মনে হয়েছিল যে হয়তো মাকে আর বেশিদিন পাবনা।

কদিন পরে মনটা খুব চঞ্চল লাগতে ছুটে গেলাম। মা অন্নপূর্ণার মূর্তি কে পরিস্কার করে ফুল দিয়ে সাজিয়ে সামনের জল আর সন্দেশ রাখলাম। সন্ধ্যে দিয়ে সমস্ত বাড়িতে গঙ্গা জল ছিটিয়ে মারপাশে এসে বসলাম। মুখে সর্বক্ষণ অক্সিজেনের পাইপ থাকতো, পাইপ টা সরিয়ে মুখে একটু সন্দেশ আর জল রাখতে মনে হল মার নিঃশ্বাস একটু কষ্ট হচ্ছে। পাইপটা আবার ঠিকভাবে লাগিয়ে দিলাম। মা আমায় মাথায় হাত রেখে চোখের জল দিয়ে আশীর্বাদ করলেন। সেদিন চলে আসার সময় নিজেকে সামলাতে পারিনি ।সারাটা রাস্তা এমন কতগুলো ঘটনা মনে পড়তে লাগলো, যা আমার জীবনেরএক একটা অধ্যায়। মা ছাড়া যে আমার জীবনের কোনো অস্তিত্বই নেই সেটা প্রথমবার বুঝলাম।
আমার বিয়ের পরদিন সকালে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মা আমার সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি এসেছিলেন শুধু নিজের চোখে জামাই আমায় ঠিকমতো সিঁদুর পরাল কিনা দেখার জন্য। তৃতীয় পুত্রের জন্মের সময় যখন আমায় দশ ঘন্টা প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল তখন ফোনে ডাক্তারকে চিৎকার করে বলেছিলেন"বাচ্চা চাইনা আমার মেয়েকে বাঁচান। সিজার করুন ওকে আর কষ্ট দেবেন না"। তৃতীয়বার ও পুত্র হয়েছে শুনে মা খুব ভেঙে পড়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি সমস্যা নিয়ে আমি মা'র ‌ সঙ্গে আলোচনা করতাম। আমার মেয়েকে ঘিরে তার স্বপ্ন দেখার কোনো সীমা ছিল না। প্রথম জন্মদিনে আমাকে দিয়ে মা একরকম প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিলেন," যদি পৃথিবীর রাজার সঙ্গেও তোমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয় তবু তাকে চোখের আড়াল করবে না।"আমার শরীরের যত্ন যে আমি ঠিকমত নিতাম না এটা মা জানতেন। বারবার আমাকে মনে করিয়ে দিতেন শরীরে ঈশ্বরের বাস তাকে অবহেলা করে কিছুই পাবেনা। আমার জীবনের প্রতিটি জিনিসের দিকে নজর ছিল। বিছানার চাদর একটু পুরনো হলেই নতুন কিনেছি কিনা তা খবর ।নিতেন। এরকম ছোট বড় কত ঘটনা সেদিন মনে হচ্ছিল। নিজেকে কোনভাবেই সান্ত্বনা দিতে পারছিলাম না, মা'র অবর্তমানে আমি শুধু বেঁচে থাকব। আমার সমস্ত শক্তির উৎস যে মা ছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ নেই।

পরদিন সন্ধ্যেবেলা আমার ছোট ভাইকে স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে ফোনে জানাল মাকে তারা অনেকক্ষণ ডেকে কোন সাড়া পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে মা হয়তো বেঁচে নেই। এরকম ধরনের একটা কথা শুনে আমার রাগে দুঃখে ‌ মুখে কোন কথা আসছিল না। ফোনটা রেখে আমাদের ডাক্তারকে ফোন করলাম। 10 মিনিটের ভেতরে তিনি এসে আমাকে নিয়ে পৌছে গেলেন মার কাছে। ঘরে ঢুকে দেখলাম মার নাক থেকে অক্সিজেনের পাইপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছ। ডাক্তার মাকে পরীক্ষা করতে লাগলেন। আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে বললেন---"না আর কিছু করার নেই। ওঁকে এবার শান্তিতে ঘুমোতে দাও"আমি মা অন্নপূর্ণার পায়ের ফুল মার মাথায় ঠেকিয়ে বুকের উপর রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। রাস্তায় এসে দেখলাম ট্যাক্সি থেকে বোন ভগ্নিপতি নামছে। ওরা আমায় দাড়াতে বলল কিন্তু ওদের ডাক আমার কানে পৌঁছালো না। আমায় ডাক্তারবাবু হাত ধরে নিয়ে গাড়ির পেছনের সিটে শুইয়ে দিলেন। বাড়িতে ফিরে কারো সঙ্গে কোন কথা বলতে পারিনি। বড়পুত্র শুধু জানতে চেয়েছিল তার দিদি কেমন আছেন।
সেদিন একটা ঘোরের মধ্যে কাটলো। পরদিন সকালে আমার চোখের সামনে অন্ধকারটা কিছুতেই যেন কাটছিল না। মা ছাড়া আমার জীবনটা যেন একেবারেই অর্থহীন মনে হচ্ছিল।
শুধু মনে হচ্ছিল যে আমার জীবনে আর কোন দায়িত্ব কর্তব্য নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।
শরীর-মনের ওই রকম অবস্থায় মার অন্তিম সংস্কার এ যেতে পারিনি। বোনের কাছ থেকে পরে শুনেছিলাম সবকিছুই নাকি ঠিক করে হয়েছিল।
আজ মাঝে মাঝে মনে হয় মাকে কি আমি আমার কাছে এনে রাখলে আরো কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম??? এর উত্তর আমি আজও পাইনি।
মা ছ বছর বয়স থেকে আমায় যা কিছু শিখিয়েছিলেন আজও তা পালন করে চলেছি। অগণিত মানুষের প্রশংসা শুনেছি ,সবাই একই কথা বলেছেন----আমার নাকি সোনার সংসার!!!
মা আমার জীবনে নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র--যে আশীর্বাদ তিনি আমাকে করে গিয়েছেন তার ফলস্বরূপ আমি ধন্য এবং অপরাজিতা।